25 C
Kolkata
Monday, March 1, 2021
Home অফবিট অমর একুশে: ডাক্তারিতে বাংলা ভাষা

অমর একুশে: ডাক্তারিতে বাংলা ভাষা

- Advertisement -

ডা: গৌতম খাস্তগীর: ‘যকৃত’, ‘বৃক্ক’ শব্দগুলো কেমন চেনা চেনা লাগছে না, মনে হচ্ছে কোথায় যেন শুনেছি বা পড়েছি ? এর ইংরাজি নামগুলো বললে দেখবেন মনে হবে জানা । যকৃত মানে লিভার এবং বৃক্ক মানে কিডনী । ডাক্তারি অভিধানে এমন অনেক শব্দ আছে যার বাংলা মানের থেকে ইংরাজি কথাটাই বেশী প্রচলিত । তাই রোগীদের বোঝানোর সময় ডাক্তারবাবুরা কিছু কথা ইংরাজিতেই বলে থাকেন । কিন্তু পুরোপুরি সমস্যাটা ডাক্তারি পরিভাষায় বোঝালে অবশ্যই তা সাধারণ মানুষের বোধগম্য হবে না । এক্ষেত্রে বরং বাংলায় সহজ উদাহরণের মাধ্যমে ডাক্তারি সমস্যাটা বোঝানো উচিত ।

সেই জন্যই ডাক্তারদের বলা কথাগুলো অনেকসময় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছে খুব অচেনা এবং কঠিন লাগে । মনে হয় কি বললেন কিছুই তো বুঝলাম না । আবার জিজ্ঞাসা করার সাহসও হয় না ওনার ব্যস্ততা দেখে । ডাক্তার ও রোগী কথোপকথনের ভাষাটা ঠিক কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে । তবে আমার দীর্ঘ ৪০ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি রোগীরা কিছু নির্দিষ্ট ধারনা নিয়ে আমাদের কাছে আসেন । এই সকল ধারনা তাঁরা বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন বা এই যুগের তথ্যের ভান্ডার ইন্টারনেট থেকে জোগাড় করেন । ডাক্তারের চেম্বারে এসে রোগী সমস্ত কথা শোনেন এবং জিজ্ঞাসা করলে বলেন সব বুঝেছেন, কিন্তু সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে এদের মধ্যে বেশী সংখ্যক মানুষই চেম্বার থেকে বেরোনোর পরেই ফিরে যান তাঁদের পুরোনো ধারনাগুলিতেই । তার মানে এই হয় এরা ডাক্তারের কোন কথা বোঝেননি অথবা বুঝেও সেগুলো মনে রাখেননি।

- Advertisement -

হাতের পাঁচটা আঙুল যেমন সমান হয় না তেমনই সব মানুষের কথা বলার বা বোঝানোর ভাষাও সমান হয় না । কোন কোন ডাক্তারবাবু খুব বেশী বিজ্ঞান সম্মত ভাষায় কথা বলেন যা খুব শিক্ষিত রোগীদের কাছেও মাঝে মাঝে বোঝা দুষ্কর হয়ে ওঠে । তবে এটাও ঠিক যে সবসময় মাতৃভাষায় কথা বলা সম্ভব হয় না । এমন অনেক ইংরাজি শব্দ আছে যাদের চলতি কথায় কোনও বাংলা মানে হয় না । যেমন ধরুন ফুটপাথ, গ্লাস, চেয়ার, টেবিল, ব্ল্যাকবোর্ড, টেলিভিশন ইত্যাদি । তাই এইসব ক্ষেত্রে যেমন না চাইলেও ইংরাজি ভাষা ব্যবহার করতে হয় । তেমনই চিকিৎসা বিজ্ঞানেও এমন কিছু শব্দ আছে যেগুলোর বাংলা শব্দগুলো এতই অপ্রচলিত যে সেক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহার করলেই বরং বুঝতে অসুবিধা হয়।

ভারতবর্ষের মতো দেশ যেখানে শিক্ষার হার তেমন বেশী নয় সেখানে ডাক্তার ও রোগীর কথোপকথন বেশীরভাগটাই মৌখিক ভাবে হয়ে থাকে । আর যেটুকু লেখা হয় তা সম্পূর্ণ বিজ্ঞান সম্মত ভাষায় । আমাদের মতো অধিক জনসংখ্যা-এর দেশে যেখানে ডাক্তারের তুলনায় রোগীর সংখ্যাটা মারাত্মক ভাবে বেশী সেখানে এটা আশা করাও অন্যায় যে রোগীকে তাঁর রোগ ও চিকিৎসা সম্পর্কে ডাক্তারবাবুরা বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে বলবেন । আবার রোগীরাও চেম্বারে এসে এতটাই উদ্বিগ্ন থাকেন যে মনের প্রশ্নগুলো ঠিকমতো করার আগেই তাঁর সময় শেষ হয়ে যায় । তাই তাঁরা বাড়ি ফিরে আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব এমনকি কখনো কখনো ওষুধের দোকানের কর্মীকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন । আমাদের দেশের সব মানুষেরই বিশ্বাস তাঁদের ডাক্তারি সম্পর্কে যথেষ্ট সম্যক ধারনা রয়েছে । তাই তাঁরা নির্দিধায় অন্যান্য মানুষকে মতামত দান করেন ।

তবে একটা কথা আছে না ‘নানা মুনির নানা মত’ এবং এই নানা মতের ধাক্কায় মাঝখান থেকে রোগী ডাক্তারের বলা সমস্ত কথা ভুলে গিয়ে বিভ্রান্তির চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যান । বর্তমান যুগের তথ্যের ভাণ্ডার হল ইন্টারনেট যেখান থেকে আপনি সব বিষয়ে কিছু না কিছু মতামত পাবেনই । কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে ইন্টারনেটে কোন তথ্য প্রকাশ করানোর বিশেষ কোনও বিধি নিষেধ নেই তাই ডাক্তার নয় এমন অনেক ব্যাক্তিও চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য পরিবেশন করেন । তাই সেই সব তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে যথেষ্ট প্রশ্ন থেকে যায় । এবার সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা খুব মুশকিল হয়ে যায় কোনটা সঠিক তথ্য আর কোনটা নয় । আমেরিকায় বর্তমানে নিয়ম করে প্রত্যেক রোগীকে তাঁর রোগ ও তার সম্ভাব্য চিকিৎসা সম্পর্কে সাধারণ ভাষায় সমস্ত তথ্য লিখিত আকারে দেওয়া হয়ে থাকে । যাতে রোগীরা বাড়ি ফিরে ঠান্ডা মাথায় সব পড়ে বুঝতে পারেন ।

অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় রোগিদের চিকিৎসা সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়া হয়না । অর্থাৎ, চিকিৎসাটি করানোর পর তার সাফল্যের হার ঠিক কতটা তা রোগিদের বিস্তারিত বলা হয় না বা একটা ধোঁয়াশার মধ্যে রাখা হয় । এতে বিভ্রান্তি বাড়ে । আমি বন্ধ্যাত্ব নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখি এখনও বহু মানুষ আসেন যারা বছরের পর বছর বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা করিয়েছেন, সন্তানের মুখ দেখার আশায় । এক ক্লিনিক থেকে অন্য ক্লিনিকে ঘুরেছে পাগলের মতো কিন্তু সঠিক চিকিৎসাটাই হয়নি । বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় একজন মহিলার ডিম্বানু যদি ঠিক না থাকে তবে তার জন্য একমাত্র চিকিৎসা অন্য কোনও মহিলার দান করা ডিম্বানু গ্রহণ করা।

কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই সঠিক তথ্য না পাওয়ার জন্য এঁরা একই চিকিৎসা বারংবার করেও সফলতা পান না । অনেক সময় ডাক্তারবাবুরা রোগিদের সঠিকভাবে বোঝাতে পারেন না চিকিৎসা পদ্ধতিটি । কিছু ক্ষেত্রে আবার তাঁরা নিজেদের সীমাবদ্ধতা ঢাকার জন্য উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্য না নিয়ে একই চিকিৎসা বারবার করে যান । আসলে বুঝতে হবে একেক ধরণের সমস্যার জন্য একেক ধরণের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন । তাই ডাক্তারবাবুদের উচিত তাঁদের হাতের মধ্যে না থাকলে রোগিকে সঠিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া।

রোগীদের খুব স্বাভাবিক প্রবণতা হচ্ছে একই সমস্যার জন্য বিভিন্ন ডাক্তারদের মতামত নেওয়া । এবার আপনাকে বুঝতে হবে ‘যত মত তত পথ’ আর ডাক্তারি বিজ্ঞানটা কিন্তু অঙ্কের মতো ২ + ২ = ৪ নয় । একেকজন ডাক্তারবাবুর চিকিৎসা পদ্ধতি একেকরকম সবার চিকিৎসা পদ্ধতি একরকম নাও হতে পারে । তার মানে এই নয় যে কারো চিকিৎসা পদ্ধতি ভুল । ডাক্তারের পরিস্থিতি, রোগীর পরিস্থিতি সব দিক বিচার করে তবে ঠিক করা হয় কোন চিকিৎসা প্রদান করা হবে । এই বিষয় একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা পরিষ্কার হবে । আমার কাছেই এক বিবাহিতা মহিলা এসেছিলেন ওভারিতে সিস্ট নিয়ে । তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরতা এবং ৬ বছরের একটি মেয়ে আছে । ওনাকে সমস্যাটা বোঝানোর পর উনি সিদ্ধান্ত নেন ৩ – ৪ দিনের ছুটি নিয়ে ল্যাপারোস্কোপির মাধ্যমে সিস্টটি বাদ করিয়ে নেবেন । তবে ওনার হাতে কিছুদিন ওষুধ খেয়েও চিকিৎসা করাবার বিকল্প ছিল । কিন্তু উনি নিয়মিত ওষুধ খেতে পছন্দ করেন না । কাকতালীয়ভাবে ওনারি এক বান্ধবী তাঁর কিছুদিন বাদে একই সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসেন । কিন্তু ইনি ওষুধের চিকিৎসা পদ্ধতিতে বেশী স্বচ্ছন্দ বোধ করেন কারণ এনার স্বামী বাইরে কর্মরত ও বাড়িতে খুব বয়স্ক শশুড় এবং শাশুড়ি আছেন । সুতরাং বুঝতেই পারছেন দুজন রোগীর একই সমস্যার জন্য ভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি হতেই পারে ।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন না হলেও রোগীকে ভয় দেখিয়ে তাড়াতাড়ি অপারেশন করতে বলা হয় । যেমন কোন রোগীর জরায়ুটির অবস্থা খুব একটা ভাল নয় তাই সেটিকে বাদ দিলে ভাল হয় । অপারেশন করানোর জন্য রোগীকে রাজি করাতে কোন কোন বিশেষজ্ঞ বলতে পারেন আপনার জরায়ুটা তো পচে গেছে । এই ভাবে বলা ঠিক নয় । ডাক্তারদের তরফ থেকেও কিছু কিছু তথ্য এমনভাবে পরিবেশন করা হয় যাতে রোগীর পক্ষে তা গ্রহণ করাটা অসুবিধাজনক হয়ে পড়ে । ধরুন কোন প্রেগন্যান্ট মহিলার বাচ্চা পেটের মধ্যে নড়াচড়া কমতে কমতে অবশেষে মারা গেছে কিন্তু মহিলা সেটা বুঝতেই পারেননি । এমন পরিস্থিতিতে আমাদের দেশে রোগিণীর উপরেই সমস্ত দোষ চাপানো হয় । যেমন “আপনার আগে বোঝা উচিত ছিল” বা “আপনার বাচ্চার নড়াচড়া সম্পর্কে আরও খেয়াল রাখা উচিত ছিল” বা “আপনার অবহেলাতেই বাচ্চাটা মারা গেল” । বোঝা উচিত এই সময় এমনিতেই সেই মহিলার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে । সেই সময় তাঁকে আরও বিষন্নতার দিকে না ঠেলে দিয়ে উচিত তাঁকে বোঝানো । যে যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে সেটা নিয়ে আর না ভেবে পরের প্রেগন্যান্সিতে আপনাকে আরও সতর্ক থাকতে হবে দরকারে আপনাকে আমরা সপ্তাহে দুবার করে দেখব এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করে রাখব । গর্ভাবস্থায় কিন্তু কাউন্সেলিংটা খুব গুরুত্বপূর্ণ । কারণ গর্ভাবস্থায় কোন সময়টা উদ্বিগ্ন হওয়া প্রয়োজন আর কোন সময়টা চিন্তার কোন কারণ নেই তা রোগিকে ঠিকমতো বুঝিয়ে না দিলে অযথা হয়রানি হতে পারে । ঘটে যেতে পারে বিষম বিপদ । সন্তান সম্ভবা নারীর এমন কিছু উপসর্গ হতে পারে যা একমাত্র তিনিই বুঝতে পারবেন । তাই তাঁকে সঠিকভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে যে কোন উপসর্গতে কি প্রতিক্রিয়া করা উচিত ।

প্রেগন্যান্সি যদি ফ্যালোপিয়ান টিউবে আসে তবে তাকে একটোপিক প্রেগন্যান্সি বলে । ১০০ জনের মধ্যে ১ জনের এই ধরনের প্রেগন্যান্সি আসার সম্ভাবনা আছে । আর একবার এই সমস্যা হলে পরের প্রেগনেন্সিতে সেই সম্ভাবনাটা বেড়ে হয়ে যায় ১০০ জনে ৫ জন । এবার এর ব্যাখ্যাটা একেকজন একেকভাবে করবেন । কেউ বলবেন একবার একটোপিক হলে পরের বার হওয়ার সম্ভাবনাটা ৫ গুণ বেশী যা শুনে মহিলা এবং তাঁর পরিবার প্রচন্ড ভ্য় পেয়ে যেতে পারে । এই তথ্যটি একেবারে সঠিক হলেও এটার ব্যাখ্যাটা সঠিকভাবে করতে হবে । যে প্রথমবারে ১০০ জনে মাত্র ১ জনের এবং দ্বিতীয়বারে ১০০ জনে মাত্র ৫ জনের, অর্থাৎ ৯৫ জনের এই সমস্যা হবে না । রোগীদের আশ্বস্ত করাটাই একজন ডাক্তারবাবুর প্রকৃত কাজ, কিন্তু অনেক সময় তাঁদের বলার ধরন তার উল্টোটাই হয় ।

হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপীতে একটি প্রচলিত কথা হচ্ছে বেশীদিন এই চিকিৎসা গ্রহণ করলে নাকী ব্রেস্ট ক্যানসার হয় । যা আদপে একটি ভুল তথ্য । আসলে একটা কথা আছে না “অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী” মানে একটা বিষয়ে পুরো সব তথ্য না জেনে বা অল্প একটু জেনে তা জনস্বার্থে প্রচার করা । ৫০ বছর বয়সের পরে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন একসাথে ৫ বছর নিলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, শুধু ইস্ট্রোজেন নিলে সেই সম্ভাবনা নেই । আর ৫০ বছরের কম বয়সী মহিলাদের তো সম্ভাবনা নেই । তাই হরমোন থেরাপী নিলেই ক্যানসার হয় এটি ভুল তথ্য । সঠিকভাবে জানানো উচিত কোন হরমোন গ্রহণ করলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।

অনেকসময় ডাক্তারবাবুদের বেশী প্রশ্ন করলে তাঁরা রেগে যান এবং বলেন আপনি এত কিছু জানতে চাইছেন কেন আপনি কি ডাক্তার ? এটা যেমন ঠিক সব কথা রোগীরা বুঝতে পারবেন না । কিন্তু এটাও ঠিক যে রোগীদের তাঁর রোগ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে কিছুটা জানার পূর্ন অধিকার আছে । তাঁদের যতটা সম্ভব সহজ ভাষায় সেটা বুঝিয়ে বলতে হবে । এক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা গ্রহণ করেন কাউন্সেলাররা । যারা ডাক্তারের বক্তব্যটা খুব সহজ ভাষায় সময় নিয়ে রোগীদের বুঝিয়ে দেন । যাতে কোনরকম ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয় ।
ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে আলোচনায় উপযুক্ত ভাষার ব্যবহারের ফলে অনেক ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো যেতে পারে। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে কিন্তু আমাদের দেশে এই ঘটনাগুলিই বেশী ঘটে । আমি বিশ্বাস করি ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি এড়িয়ে মধুর সম্পর্ক প্রতিস্থাপন সম্ভব । বর্তমানে আমাদের সবাইকে একজোটে এগিয়ে এসে সমস্যার সমাধান করতে হবে । উপযুক্ত ভাষার প্রয়োগ না হবার ফলে যাতে কোনও রোগী মানসিক ও শারীরিক কষ্ট নিয়ে ডাক্তারের চেম্বার ছেড়ে না চলে যায় ।

আসুন দেখি আমরা কোন কোন দিক দিয়ে ডাক্তাররা নিজেদের সংশোধন করতে পারি । আর রোগীদেরকেও নিজেদের সংশোধন করার সুযোগ দিতে পারি ।

রোগিদের জন্য –
ডাক্তারের চেম্বারে আসার আগে আপনার সমস্যা সম্পর্কে জানুন কিন্তু তথ্যের সূত্রটি কতটা বিশ্বাসযোগ্য তা বিচার করে নেবেন । আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধব মানেই যে সবসময় ঠিক তথ্য দেবেন তাঁর কোন মানে নেই । হয়তো তিনি আপনাকে সাহায্য করতে গিয়ে নিজের অজান্তেই ভুল তথ্য পরিবেশন করে ফেললেন । তথ্য সংগ্রহ করুন তবে ডাক্তারের উপর ডাক্তারি করতে যাবেন না এতে কিন্তু আপনারই ক্ষতি। ডাক্তারের চেম্বারে যাওয়ার আগে আপনার যা যা প্রশ্ন তা সুন্দর করে একটি কাগজে লিখে নিন । যাতে চেম্বারে গিয়ে সময় অপচয় না করে আপনার জিজ্ঞাসাগুলো জানতে পারেন । এটাও বুঝতে হবে ডাক্তার মানেই ভগবান নন । ডাক্তার কোন ম্যাজিক জানেন না যে আপনি সমস্যা নিয়ে গেলেন আর ওষুধ খেয়েই আপনি সঙ্গে সঙ্গে সেরে গেলেন । কিছু রোগ চটপট সাড়ে আবার অনেক অসুখ সাড়তে সময় নেয় । বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে হয়তো প্রাথমিক চিকিৎসায় কাজ না হলে অন্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে ।

আমরা জানি রোগীরা অনেক আশা নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে আসেন । কিন্তু তাঁদের এটা মেনে নিতে হবে যে সব রোগের চিকিৎসা ঝট করে হয় না বা সব রোগ সাড়িয়ে তোলা যায় না । যে ডাক্তারবাবুর কাছে যাচ্ছেন তাঁর উপর বিশ্বাস রাখুন । মনে রাখবেন কোনও ডাক্তারবাবুই তাঁর রোগীর ক্ষতি চান না । রোগীকে সাড়িয়ে তুললেই ডাক্তারের সুনাম এবং পসার বাড়ে । চেম্বারে গিয়ে হড়বড় করে আপনি অনেক কিছু জানেন সেটা প্রকাশ করার চেষ্টা না করে ডাক্তারবাবু কি বলছেন তা মন দিয়ে শুনুন তারপর আপনার কিছু বলার থাকলে বলবেন । কাউন্সেলারদের উপর বিশ্বাস রাখুন, মনে রাখবেন এঁরা প্রত্যেকে বহুবছর ডাক্তারের চেম্বারে কাজ করে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন বা কাউন্সেলিং সম্পর্কিত পড়াশুনা করেছেন । তাই ডাক্তারবাবুর বলা কথাগুলো এঁরা অনেক সহজে আপনাদের বুঝিয়ে বলতে পারবে ।

আমার সহকর্মী ডাক্তারদের জন্য –
ডাক্তারদের উচিত চেম্বারে রোগীর সাথে যতটা সম্ভব সাধারণ ভাষায় কথা বলা । ভারতবর্ষের মতো জনবহুল দেশে যেখানে ডাক্তারের সংখ্যা তুলনায় কম সেখানে কাউন্সেলিং সিস্টেমটাকে মজবুত করা । রোগীকে আগেই ভয় পাইয়ে না দিয়ে তাঁর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে তাঁকে বুঝিয়ে বলা । বিভিন্ন রোগ, তাঁর ফলাফল, চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে যদি একটি লিফলেট বা বই রোগীদের দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তাঁরা বাড়ি গিয়ে নিজেদের কৌতূহলগুলি পূরণ করে নিতে পারবেন ।

আমরা যদি মিলিতভাবে এই বিষয়গুলি মাথায় রাখতে পারি তবে ডাক্তার ও রোগীর সম্পর্ক চিরমধুর থাকবে । বিশেষত আমরা বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞরা জানি বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসাটি কিন্তু বিজ্ঞানের সাথে সাথে অনেকটাই বোঝানো নির্ভর । তাই আসুন সকলে মিলে এমন একটা ব্যবস্থা গঠন করি যাতে কোন রোগীকে আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে রোগ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ না করতে হয় ।

সবচেয়ে জনপ্রিয় সংবাদ

লাদাখের দিকে নজর দেওয়ার শাস্তি পেল চীন, শি জিনপিং-এর গলা কাটল সিংহ

খাসখবর ডেস্ক: একে করোনা রক্ষে নেই, লাদাখে অনুপ্রবেশের চেষ্টা দোসর৷ করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সময় থেকেই গোটা বিশ্বের চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিল চীন। তারপরে মে...

রাখির বদলে মাস্ক বিতরণ করে মেলবন্ধন গড়বেন ফিরহাদ

কলকাতা: রাত পোহালেই রাখি বন্ধন উৎসব। এই শুভ দিনে বোনদের সব বিপদ থেকে রক্ষা করার শপথ নেয় ভাইয়েরা৷ কিন্তু এবছর করোনা আবহে উদযাপিত হবে...

‘দালাল চক্র’ বন্ধের দাবিতে বাঁকুড়ায় বিক্ষোভ তৃণমূলের

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া: 'দালাল চক্র' বন্ধ ও সাধারণ মানুষের হায়রানি বন্ধে প্রতিটি ব্যাঙ্কের শাখা, ডাকঘর, পঞ্চায়েত ও পুরসভায় আধার কার্ড তৈরির দাবিতে আন্দোলনে নামল...

একগুচ্ছ দাবি নিয়ে মালদহের গ্রাম পঞ্চায়েত ঘেরাও পরিযায়ী শ্রমিকদের

নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ: নিজেদের দাবি নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভে সামিল হল পরিযায়ী শ্রমিক সহ তাঁদের পরিবাররা৷ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সহ সরকারি...

খবর এই মুহূর্তে

জাতীয় বিজ্ঞান দিবস এবং সি.ভি রমন

খাস খবর ডেস্ক: প্রত্যেক আবিষ্কারের পিছনে লুকিয়ে থাকে একজন বিজ্ঞানীর বছরের পর বছরের প্রচেষ্টা। সেই প্রচেষ্টাকে কুর্নিশ জানিয়ে পালন হয় আমাদের জাতীয় বিজ্ঞান দিবস।...

নাগরদোলায় ভেলকি দেখাতে গিয়ে মৃত্যু যুবকের, আহত এক

আলোক ঘোষ, ব্যারাকপুর: মেলায় নাগরদোলায় ভেলকি দেখাতে গিয়ে মৃত্যু হল এক যুবকের। একইসঙ্গে এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। ঘটনাটি ঘটেছে বসিরহাট মহকুমা হিঙ্গলগঞ্জ...

বসিরহাটে গ্রেফতার ১৫ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী

নিজস্ব সংবাদদাতা, বসিরহাট: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। এক বছর আগেও ওই আইন নিয়ে হিংসা ছড়িয়েছিল জাতীয় রাজধানীতে। করোনার প্রকোপ কমলেই ওই...

ইন্টিরিয়র ডিজাইনার রূপী কঙ্গনা, দেখে নিন কার বাড়ি সাজাতে ব্যস্ত অভিনেত্রী

মুম্বই: বরাবরই তাঁকে দেখা যায় প্রতিবাদী ভূমিকায়। সবসময় নিজের মত স্পষ্ট করে বলতে ভালোবাসেন। এই নিয়ে বারংবার বিতর্কেও জড়িয়েছেন তিনি। যে কোনও ইস্যুতে তিনি...
- Advertisment -