Home অফবিট আপেক্ষিকতাবাদ থেকে পারমানবিক অস্ত্রের ধারণা, অনেক কিছুই রয়েছে মহাভারতে

আপেক্ষিকতাবাদ থেকে পারমানবিক অস্ত্রের ধারণা, অনেক কিছুই রয়েছে মহাভারতে

শেখর দুবে: থিওরী অব ‘টাইম ডাইলেশন’-এর ব্যাপারে শোনা আছে? বিষয়টা বেশ ইন্টারেস্টিং। যদি কোনও ব্যক্তি (বিজ্ঞানের ভাষায় পার্টিকল, ব্যক্তিটা আমি কমন নিয়েছি) আলোর গতিবেগ নিয়ে দৌড়তে পারেন তাহলে তাঁর জন্য সময়ের পরিবর্তনের গতি অন্যদের তুলনায় দেরিতে হবে। বোঝা গেল না তো? আরও সহজ করে বলি যদি কোনও মানুষ আলোর সমান গতিবেগে দৌড়তে পারে তাহলে তার জন্য সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টার সাধারণ হিসেব পাল্টে যাবে।

এরকমই আরও একটি থিওরি হচ্ছে, ‘টুইন প্যারাডক্স’। এই থিওরিটিও বেশ মজার। এই থিওরিতে বলা হয়েছে একসঙ্গে জন্মানো দুটি ভাই বা বোনের(যমজ) একজনকে যদি জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুতগতির রকেটে চাপিয়ে মহাকাশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তো কয়েকবছর পর দেখা যাবে যে ভাইটি মহাকাশে দ্রুতগতির রকেটে চেপে ঘুরছে তার তুলনায় পৃথিবীতে থাকা ভাইটির বয়স বেড়ে গেছে!

- Advertisement -

না না আমি বলছি না এটা, বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের ‘স্পেশাল থিওরী অফ রিলেটিভিটি’ থেকে জটিল গাণিতিক সমাধানের মাধ্যমে এই থিওরিগুলোর জন্ম। আইনস্টাইন এই থিওরীগুলো নিয়ে কাজ করেছেন বিংশ শতাব্দীতে।

এবার একটু মহাভারত পড়ি, অর্জুনকে নিশ্চয় মনে আছে? তাহলে এটাও মনে থাকবে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে কৃষ্ণ এবং শিবের পরামর্শে স্বর্গ যাত্রা করেছিলেন অর্জুন। সূর্যের অতিদ্রুতগামী রথে চড়েই এই যাত্রা করেছিলেন গাণ্ডিবধারী৷ মূলত নাচ শিখতে (যেটা পরবর্তী কালে ছদ্মবেশ নিয়ে বৃহন্নলা সাজতে সাহায্য করবে অর্জুনকে) এবং দিব্যাস্ত্র লাভের আশায় স্বর্গে যান অর্জুন। মহাভারতের বর্ণনা অনুসারে এই সময় অর্জুন একাই স্বর্গে যান এবং ওখানে কয়েকদিন কাটিয়ে উর্বশীর কাছে নৃত্য শেখেন। দিব্যাস্ত্রও লাভ করেন এবং আবার মর্ত্যে ফিরে আসেন। অর্জুন ফিরে এসে দেখেন তার বাকি দাদা ভাই সহ মর্ত্যে থাকা তাঁর পরিচিতদের বয়স যেন অতি দ্রুততার সঙ্গে বেড়েছে এই কদিনে। তুলনায় স্বর্গ ফেরৎ তিনি নিজে বেশ যুবকই রয়েছেন।

আরও একটা এরকমই গল্প বলি, যার উল্লেখ ভগবৎ ও বিষ্ণু পুরাণে পাওয়া যায়। মর্ত্যের পরাক্রমী রাজা কাকুদমী একবার যজ্ঞ থেকে এক কন্যা সন্তান লাভ করেন। অপ্রাকৃতিক জন্ম এবং অসাধারণ রূপ ও গুণের কারণে সারা পৃথিবীতে নিজ কন্যার যোগ্য বর খুঁজে পাননি কাকুদমী। বাধ্য হয়ে তিনি মর্ত্য (মৃত্যুলোক) ছেড়ে ব্রহ্মলোকে যান, ব্রহ্মার সঙ্গে দেখা করতে। কয়েকদিন অপেক্ষার পর ব্রহ্মলোকে ব্রহ্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় কাকুদমীর। তিনি তাঁর কন্যা রেবতীর জন্মের চমৎকারিতা এবং মর্ত্যে তাঁর যোগ্য পাত্র না পাওয়ার কথা ব্রহ্মাকে জানান । যাই হোক, কাকুদমীর কথা শুনে ব্রহ্মা বলেন, আপনি আপনার মেয়ের বর মর্ত্যেই পাবেন। তবে আপনি যে সব রাজপুত্র মর্ত্যে দেখে এসেছিলেন তাঁদের আর কেউ জীবিত নেই। রাজা অবাক হয়ে যান, কিভাবে তাঁরা মারা গেলেন? পৃথিবীতে কি কোনও ভয়ঙ্কর দুর্যোগ এসেছে? এ ব্যাপারে ব্রহ্মার কাছে জানতে চান কাকুদমী। উত্তরে ব্রহ্মা বলেন,
‘মৃত্যুলোক এবং ব্রহ্মলোকের কালের গতি (সময়ের গতি) আলাদা। এখানে সময় অনেক ধীরে প্রবাহিত হয়। ব্রহ্মলোকে আপনি যে সময় অতিবাহিত করেছেন তা পৃথিবীতে কয়েক যুগের সমান৷ তাই ওখানে আপনার দেখে আসা মানুষদের কেউই আর জীবিত নেই৷’

গ্রহ থেকে মহাশূন্যে সময় পরিবর্তনের যে ব্যবধানের কথা আইনস্টাইনের স্পেশাল থিওরি অফ রিলেটিভিটি, টাইম ডাইলেশন, টুইন প্যারাডক্স বিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে বলছে সেই একই রকম ধারণার কথা মহাভারত, রামায়ণ, পুরাণের বিভিন্ন গল্পে উল্লিখিত রয়েছে।

ইমাজিনেশন ইজ দ্য মাদার অব ইনভেনশান, আর সেই শক্তিশালী কল্পনাশক্তি যে ভারতের প্রাচীন মুনি ঋষিদের ছিল তা প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্র ঘাঁটলেই পাওয়া যায়। এবং তাঁরা রীতিমতো এগুলো নিয়ে গবেষণা করতেন তার প্রমাণও ভুরিভুরি। লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি প্লেন আবিষ্কার করেননি, খালি এই স্বপ্নটুকু দেখতে পেরেছিলেন খাতায় কলমে যে মানুষ একদিন আকাশে উড়বে। অনেক বছর পর রাইট ভ্রাতৃদ্বয় তাঁর সেই স্বপ্নকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে এনেছিলেন। কিন্তু এখানে আমরা লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চিকে কৃতিত্ব দিতে ভুলি না। কিন্তু ভারতীয় মুনি ঋষিদের বেলায় ঠিক এর উল্টোটা কেন হয়ে যায়? নিজের দেশের প্রাচীন বিজ্ঞান চিন্তাভাবনাকে অস্বীকার করে, ব্যাদে কিসসসসু নেই, হ্যা হ্যা হ্যা…
বলার মধ্যে কী এমন অহঙ্কার রয়েছে তা আজও বুঝলাম না।

মহাভারত ভালো করে পড়ুন, ব্রহ্মাস্ত্র কী? ব্রহ্মাস্ত্র কী ধরণের বিস্ফোরণ তৈরি করে তার বর্ণনা পরিষ্কারভাবে দেওয়া রয়েছে। মহাভারতে একাধিক জায়গাতে বলা হয়েছে একটা ব্রহ্মাস্ত্র কতটা বিনাশকারী হতে পারে। বিশ্বে আর কোন প্রাচীন সাহিত্যে কোন অস্ত্রের বিস্ফোরণে এরকম ভয়ঙ্কর ধ্বংসের কথা উল্লেখ নেই! যে কোনও যুদ্ধে ব্রহ্মাস্ত্রের প্রয়োগে নিষেধ ছিল। কারণ এতে পৃথিবী ধ্বংসের সম্ভাবনা ছিল। খুবই নিয়ন্ত্রিতভাবে মাত্র একবার ব্রহ্মাস্ত্র ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে মহাভারতে। তাও সেটাকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল৷

আরও মজার ব্যাপার বলি, বিজ্ঞানী রবার্ট ওপেনহাইমার, যিনি বিশ্বকে অ্যাটম বোমের (পারমাণবিক বোম) সঙ্গে পরিচয় করিয়েছিলেন তিনি ওই আবিষ্কারের পর একটি বিখ্যাত উক্তি করেছিলেন,
‘ নাউ আই হ্যাভ বিকাম ডেথ অ্যান্ড ডেস্ট্রয়ার অফ দি ওয়ার্ল্ড।’

কালোহস্মি লোকক্ষয়কৃৎ প্রবৃদ্ধো
লোকান্ সমাহর্তুমিহ প্রবৃত্তঃ।
ঋতেহপি ত্বাং ন ভবিষ্যন্তি সর্বে
যেহবস্থিতাঃ প্রত্যনীকেষু যোধাঃ।।৩২।।

অর্থ: আমি লোকক্ষয়কারী প্রবৃদ্ধ কাল এবং এই সমস্ত লোক সংহার করতে এক্ষণে প্রবৃত্ত হয়েছি। তোমরা (পান্ডবেরা) ছাড়া উভয়-পক্ষীয় সমস্ত যোদ্ধারাই নিহত হবে।

মৃত্যুঃ সর্বহরশ্চাহমুদ্ভবশ্চ ভবিষ্যতাম্৷
কীর্তিঃ শ্রীর্বাক্ চ নারীণাং স্মৃতির্মেধা ধৃতিঃ ক্ষমা ৷
(অধ্যায়-১০, বিভূতিযোগ, শ্লোক-৩৪)

অর্থ: সমস্ত হরণকারীদের মধ্যে আমি সর্বগ্রাসী মৃত্যু। আমিই ভবিষ্যৎ-এর সৃষ্টিশক্তি। নারীদের মধ্যে কীর্তি, শ্রী, বাণী, স্মৃতি, মেধা এবং ক্ষমা ।

কি রবার্ট ওপেনহাইমারের বক্তব্যের সঙ্গে গীতায় কৃষ্ণের উক্তির মিল পেলেন?

১৯৩৩ সালে ওপেনহাইমার বার্কলেতে ছিলেন। অ্যাটম বোম বানানোর যে প্রোজেক্ট যার পোশাকি নাম ছিল ‘ম্যানহাটন প্রোজেক্ট’-এর প্রধান হিসেবে। এইসময়ই গীতা এবং মহাভারতের প্রতি আকৃষ্ট হন রবার্ট ওপেনহাইমার৷ আর্থার রাইডার নামের একজন সংস্কৃতের অধ্যাপকের কাছে সংস্কৃত শিখতে শুরু করেন রবার্ট ওপেনহাইমার৷ আর্থারের কাছেই মহাভারত, গীতা ও বেদ পড়েন তিনি। গীতা নিয়ে ভয়ঙ্কর প্যাশনেট ছিলেন ওপেনহাইমার৷

রর্বাটের ভাই ফ্রাঙ্ক ওপেনহাইমার একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, দাদা মহাভারতের (প্রাচীন ভারতে) অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন। বিশেষ করে মহাভারতে ব্রহ্মাস্ত্রের বিষ্ফোরণের বর্ণনা নিয়ে তাঁর আগ্রহ ছিল সর্বাধিক। জনশ্রুতি রয়েছে নিউক্লিয়ার বিষ্ফোরণ হলে কীরূপ ধ্বংস হতে পারে এটার বর্ণনা করতে গিয়ে ব্রহ্মাস্ত্রের কথাও উল্লেখ করেছেন স্বয়ং রবার্ট ওপেনহাইমারই৷

- Advertisment -

সবচেয়ে জনপ্রিয় সংবাদ

জুতোর মাধ্যমেও কি করোনা ছড়ায়, উত্তর দিল কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক

নয়াদিল্লি: জুতোর মাধ্যমে কি করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে, এই নিয়ে নানান প্রশ্ন রয়েছে। আর সেই প্রশ্নেরই জবাব দিল কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। এই...

রেল পুলিশের তৎপরতায় হাওড়া স্টেশন থেকে উদ্ধার মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরী

নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া: রেল পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হল এক কিশোরী। তাকে হাওড়া স্টেশন থেকে উদ্ধার করা হয়। রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পনেরোর...

করোনা মোকাবিলায় ‘ত্রাণ’ বিলি বিধান নগর পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের

বিধাননগর: বিধাননগরের ছয়নাভি অঞ্চলে বৃহস্পতিবার বিধান নগর স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও কিছু বিশিষ্ট মানুষের যৌথ উদ্যোগে কিছু পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হলো খাদ্যসামগ্রী। এদিন মোট...

ব্লাইন্ড ডেটে গিয়ে পকেট থেকে খসল ২ লক্ষ টাকা

বেজিং: আজকালকার যুগে ব্লাইন্ড ডেট এর বিষয়টি খুব স্বাভাবিক। আর এই ব্লাইন্ড ডেট করতে গিয়েই এক ব্যক্তির পকেট থেকে খসল ২ লক্ষ টাকা। জান গিয়েছে,...
- Advertisment -

খবর এই মুহূর্তে

সুবিচার পেতে শ্রীরামেই ভরসা রাখছেন বিতর্কে বিধ্বস্ত হিন্দু অভিনেত্রী সায়নী

খাস খবর ডেস্ক: জয় শ্রীরাম শ্লোগান দেওয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েছেই। এই নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ। সেই...

আমার বাবাকে বাঁচান’, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্তি প্রাক্তন BARC সিইও-র মেয়ের

খাস খবর ডেস্ক: সম্প্রতি মুম্বই পুলিশের অধীনে তলোজা জেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন ব্রডকাস্ট অডিয়েন্স রিসার্চ কাউন্সিলের প্রাক্তন সিইও পার্থ দাশগুপ্ত। এবার তাঁর জীবন বাঁচানোর...

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, সায়নীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের একাধিক রাজ্যে

খাস খবর ডেস্ক: শিব লিঙ্গের কন্ডোম পড়াচ্ছে বুলা দি। এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করায় আঘাত লেগেছে ধর্মীয় অনুভূতিতে। সেই কারণে অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের...

এবার ভোটযুদ্ধে বাংলায় বিজেপিকে কড়া চ্যালেঞ্জ জনসংঘের

সুমন গঙ্গোপাধ্যায়: যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে সামনে রেখে বাংলায় ক্ষমতা দখল করতে চাইছে বিজেপি, এবার সেই শ্যামাপ্রসাদেরই হাতে গড়া জনসংঘের কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে...